নতুন বছরে ডিআইইউ শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের জনগণও বিভিন্ন উৎসব-আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালকে উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করে নিয়েছে। বিদায় নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থানসহ নানা ঘটনাবহুল ২০২৪ সাল।
নতুন বছরে আমাদের সামনে কী অপেক্ষা করছে তা কারও জানা নেই। তবে অজানা ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে, মঙ্গলময় ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় এগিয়ে চলা প্রয়োজন। শুভ প্রয়াস ও ভালো কিছুর আশা সর্বদাই মানুষের অন্তরে বিরাজমান। নতুন স্বপ্ন আর প্রত্যাশার আলোকে উদ্ভাসিত ২০২৫ সালে আলোকিত দিন ও নিরাপদ জীবনধারার সূচনা হোক।এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ক্যাম্পাসের কয়েকজন শিক্ষার্থীরা। আর সেসব বিষয় তুলে ধরেছেন ডিআইইউ ক্যাম্পাস সাংবাদিক বায়েজিদ হোসেন।
প্রাসঙ্গিক দক্ষতার প্রয়োজন -
স্কুল কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমরা যে কারিকুলামে পড়াশোনা করছি তা কি আসলেই আমাদের কর্মজীবনের জন্য যথেষ্ট? যদি তা না হয় তবে কারিকুলামের পরিবর্তন জরুরি। আমাদের উচিত শুধুমাত্র সার্টিফিকেট কেন্দ্রীক নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবিক দুনিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য নিজেকে তৈরি করা। তার জন্য পদক্ষেপ গুলো কি হতে পারে? সকলের সাংগঠনিক জ্ঞান থাকা উচিত, কম্পিউটার এর অন্তত বেসিক জানা উচিত, ইংরেজির পাশাপাশি আরো ২/১ ভাষায় দক্ষতা আনার চেষ্টা করা উচিত।
পাশাপাশি, নিজের সেক্টরের চাকরি গুলোর রিকুয়ার্কমেন্ট গুলোর দিকে খেয়াল রাখা এবং সেই চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করা। আরেকটা বিষয় জেনে রাখা ভাল বর্তমান সময়ে ড্রপআউট হওয়াটা হয়তো অনেকের কাছে বেশ রোমাঞ্চকর তবে মনে রাখতে হবে, ড্রপআউট হলে দক্ষ এবং পরিশ্রমী ড্রপআউট হতে হবে, যেন নিজের দক্ষতা এবং পরিশ্রম দিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট পাওয়া মানুষটাকে চ্যালেন্জ করা যায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, শিক্ষার্থীদের চাকরির বা ব্যবসার বাজারের জন্য তৈরি করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ অবদান অনেক কম। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোর দেওয়া উচিত। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কারিকুলাম কিভাবে উন্নয়ন করা যায়, পাশাপাশি গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত ল্যাব ফ্যাসিলিটি শিক্ষার্থীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে। স্ব স্ব সেক্টরের ইন্ড্রাস্টির অভিজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ এবং নিয়মিত সেমিনার আয়োজন করা উচিত যেন শিক্ষার্থীরা তাদের থেকে সমসাময়িক চাহিদা এবং নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি করতে পারে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলোর মধ্যে একটি ব্যাপার হচ্ছে, গুনগত মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ, এবং তাদের যথাযথ পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কেননা শিক্ষানবিশ পারিশ্রমিকে কখনোই একজন মানসম্পন্ন শিক্ষক রাখতে পারবে না বিশ্ববিদ্যালয়।
আব্দুল মুনয়িম সরকার শুভ
উপদেষ্টা, ডিআইইউ বন্ধুসভা, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
নতুন বছরে ক্যাম্পাসের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা-
২০২৫ নতুন বছরে আমরা নতুন করে সপ্ন দেখি।পুরোনো বছরের স্মৃতি কাটিয়ে নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ। বিগত এক বছরে অনেক বাঁধা-বিপত্তি পেরিয়ে ছাত্র-জনতা নতুন করে বাঁচার আশা জুগিয়েছে এই একটি বছরে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন বছরে চাই শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস।
যেখানে থাকবে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা, একই সাথে খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও মানবতা বোধ চর্চা।বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে।শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা ও খাবার মানসম্মত কি না নজরদারি প্রদান করা হোক।নতুন বছরে মুখরিত হোক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।আর কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক।প্রত্যাশা -প্রাপ্তির ঝুলিতে জমা হোক সাফল্য ও সম্ভাবনা।
সুইটি পালমা
অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
বৈষম্যহীন ভবিষ্যতের স্বপ্ন-
নতুন বছর আসে নতুন স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার বার্তা নিয়ে।২০২৪ সালে আমরা যারা এই ক্যাম্পাসের অংশ হতে পেরেছি, তারা প্রত্যাশা করি এক সমৃদ্ধ, ছাত্রবান্ধব, শান্তিপূর্ণ ও সৃষ্টিশীল পরিবেশ, যা শুধু আমাদের ব্যক্তিগত বিকাশ নয়, জাতির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়েও আমাদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। আমরা চাই, ক্যাম্পাস হবে রাজনৈতিক সহিংসতামুক্ত, সব ধরনের বৈষম্য ও হিংস্রতা থেকে মুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ স্থান। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখে ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে সামনে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করবে।
নতুন বছরে আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা আরও মজবুত হোক। ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য, আবাসন সংকট এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। বিশেষ করে লাইব্রেরী আধুনিকায়ন, ইন্টারনেট সংযোগের উন্নতি এবং ক্লাসরুমগুলো আরও প্রযুক্তিসক্ষম করার বিষয়ে প্রশাসন আন্তরিক উদ্যোগ নেবে। তা ছাড়া সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি পাবে এমনটিই প্রত্যাশা। এই কার্যক্রমগুলো আমাদের সৃজনশীলতাকে উন্মুক্ত করার পাশাপাশি আমাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটায়। বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজন করা উৎসব, কর্মশালা ও প্রতিযোগিতা আরও প্রাণবন্ত হবে।
সর্বোপরি, নতুন বছরে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হবে এমন একটি জায়গা, যেখানে সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হবে। ২০২৫ আমাদের সামনে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করছে। প্রত্যাশা করি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সেই দিগন্তে আলোর পথ দেখাবে।
সাদেকুল খন্দকার সেতু
সভাপতি, ডিআইইউ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
প্রতিভা বিকশিত করতে নিজেকেই উদ্যোগী হতে হবে-
প্রত্যেক বছরের শেষেই নতুন বছর নিয়ে সবার মনেই নতুন বছর নিয়ে অনেক প্রত্যাশা,আকাঙ্ক্ষা থাকে।২০২৫ সালের আগামী দিনগুলো কেমন যাবে সেটা নির্ভর করে নিজের ওপরেই।
আমি যদি ভালো থাকতে চাই এবং সমাজে সঠিক আদর্শ অনুসরণ করে কিছু করতে চাই তাহলে ৩৬৫ দিনের একটা দিনও বৃথা যাবে না। আমরা আমাদের প্রতিভা,সৃজনশীলতা সুপ্ত অবস্থায় না রেখে আগামী দিনগুলো যাতে ভালো যায় এটা নিয়ে অবশ্যই সচেতনতা বজায় রেখে প্রকাশ্যে আনবো ।আগামী দিনগুলো সবার ভালো কাটুক এই আশা নিয়ে আছি। ইনশাআল্লাহ্ ইতিবাচকতা নিয়েই বছরটি শেষ হোক।
তাসনিম তাহমিনা
ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
কেএ