Deshdeshantor24com: Bangla news portal

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ভালোবাসা দিবসে তারুণ্যের ভাবনা

ভালোবাসা দিবসে তারুণ্যের ভাবনা
গ্রাফিকস; দেশ দেশান্তর ২৪.কম

১৪ ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইনস ডে। এটি মূলত সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামক এক খ্রিস্টান সাধুর নামানুসারে পরিচিত হয়েছে, যিনি প্রেম ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন।

ভালোবাসা দিবস মানেই যেন এক অন্যরকম আবেগ,অনুভূতি, উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ । বিশ্বব্যাপি দিবসটি উদযাপিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপিত হয়। শিক্ষার্থীরা কি ভাবেন ভালোবাসা দিবস নিয়ে ! 

দেশের  বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ভালোবাসা দিবস নিয়ে তাদের অনুভূতি ও ভাবনার কথা জানিয়েছেন । তাদের কথাগুলো তুলে ধরেছেন দেশদেশান্তর২৪ - এর ডিআইইউ প্রতিবেদক : নুর ইসলাম 

অনুভূতির নিঃস্বার্থ উৎসর্গ:
ভালোবাসা শুধু একটি অনুভূতি নয়; এটি বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও নিবেদন দিয়ে গড়া এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। মানবজীবনের এই শাশ্বত অনুভূতিকে সম্মান জানাতেই ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ভালোবাসা দিবস। সময়ের পরিবর্তনে দিনটি প্রেমিক-প্রেমিকার গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও সমাজের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের এক সর্বজনীন উৎসবে।
তবে ভালোবাসা কোনো একদিনের উদযাপন নয়; এটি প্রতিদিনের যত্ন, সহানুভূতি ও নিরবচ্ছিন্ন আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ। ভালোবাসার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত থাকে ছোট ছোট মুহূর্তের মধ্যে—একটি আন্তরিক হাসি, মমতাময় স্পর্শ, পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি কিংবা নির্ভরতার নিশ্চয়তায়।
আজকের এই দিনে, ভালোবাসাকে শুধু আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং মানবিকতা, সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করি। ভালোবাসা হোক নির্ভেজাল, নিঃস্বার্থ ও সার্বজনীন—যা গড়ে তোলে এক সুন্দর, মানবিক ও সৌহার্দ্যময় পৃথিবী।

আরিফুল ইসলাম, বিবিএ,
ড্যাফোডিল ইন্সটিটিউট অফ আইটি।

ভালোবাসা মানেই আবেগ,অনুভূতি, স্মৃতি:
ভালোবেসে যদি হয় মৃত্যু পরিণাম
জেনে রেখো তবু ভালোবাসি-মুসলেহ উদ্দিন
পৃথিবীর বহুল উচ্চারিত শব্দগুলোর মধ্যে একটি হলো ভালোবাসা। ভালোবাসা শব্দটি নিছক প্রকাশ করার বিষয় নয়, শব্দটি অনুভূতি দিয়ে উপলব্দি করার বিষয় ।
ভালোবাসার রং রুপ গন্ধ কিছুই নেই কিন্তু এর অনুভূতির গভীরতা মানুষের আত্নার গভীরতার চেয়েও বৃহৎ।
আর সেই প্রতিক্ষিত দিবস হচ্ছে ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালান্টাইন ডে।
যান্ত্রিক মানুষের পর্বতসম ব্যাস্ততা উপেক্ষা করে প্রিয়জনকে বিশেষ দিনে বলবে,শুধু ভালোবাসি তোমাকে।
ভালোবাসা শব্দটিকে আজ আমরা কেবল প্রেমিক প্রেমিকার গন্ডিতেই আবদ্ধ করে ফেলেছি।
মা বাবা,স্বামী স্ত্রী, ভাই, বোন,প্রিয় সন্তান এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আবেগ আপ্লুত হতে পারে।
আসলে ভালোবাসার কোন নির্দিষ্ট দিন বা দিবস নেই। অনুভূতি, আবেগ, স্মৃতি দিয়েই সমাজ টিকে আছে।
ভালোবাসার আবদ্ধে মানুষ অমর হয়ে থাকে।
ভালোবাসা দিবসের প্রত্যয় হোক হিংসাত্নক রাজনীতি ভুলে দেশের মানুষের কথা ভেবে তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করা। একটি পজিটিভ বাংলাদেশ গঠন করা যেখানে সকলেই ভালোবাসার শিকলে শান্তিতে বেচে থাকবে।

সাকিব আল সম্রাট, ‘ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

ভালোবাসা শুধু নির্দিষ্ট একটি দিনে সীমাবদ্ধ না থাকুক:
প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস,  দিনটি প্রেম, ভালোবাসা এবং আন্তরিকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভালোবাসা দিবসের পেছনে রয়েছে একটি রক্তাক্ত ইতিহাস। রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস এর শাসনামলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক খ্রিস্টান পাদ্রী গোপনে প্রেমিক যুগলদের বিবাহ সম্পন্ন করতেন। এ কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২৭০ খ্রিস্টাব্দে। তার স্মরণে এই দিনটি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
বর্তমানে ভালোবাসা দিবস বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়। প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অপরকে লাল গোলাপ, চকলেট, কার্ড এবং স্পেশাল উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশেও ভালোবাসা দিবসের উদযাপন সময়ের সাথে সাথে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ দিনে তরুণ-তরুণীরা তাদের প্রিয়জনকে উপহার দেন এবং বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যান। তবে, ভালোবাসা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব সবার প্রতিই ভালোবাসা প্রকাশের দিন এটি।
তবে, আমি মনে করি ,ভালোবাসা প্রকাশের জন্য একটি নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন নেই। তাদের মতে, প্রতিদিনই ভালোবাসা প্রকাশ করা উচিত। তাছাড়া, ভালোবাসা দিবসকে পুঁজিবাদী সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো লাভের উদ্দেশ্যে এটি প্রচার করে।
ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস যেমন রক্তাক্ত, তেমনি এর উদযাপনও সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এটি ভালোবাসা প্রকাশের একটি বিশেষ দিন। তবে ভালোবাসা যেন শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। 

রবিউল ইসলাম, পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ভালোবাসা থাকুক প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি স্পন্দনে:
ভালোবাসা দিবস শুধুমাত্র একটি তারিখ নয়, এটি হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অনুভূতিগুলোর বিস্ফোরণ। এটি সেই দিন, যখন বলা হয় "তোমাকে ভালোবাসি", কিন্তু আসলে তা অনুভব করানো হয় প্রতিটি স্পর্শে, প্রতিটি দৃষ্টিতে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে।
ভালোবাসা মানে শুধু একসাথে থাকা নয়, বরং কারও জন্য নিজেকে নিঃশেষ করে দেওয়া, তার সুখে হাসা, দুঃখে কাঁদা, আর প্রতিটি মুহূর্তে তার অস্তিত্বকে হৃদয়ে ধারণ করা।
এই দিন কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার নয়, এটি সেই প্রতিটি হৃদয়ের, যেখানে ভালোবাসা বাস করে। বাবা-মায়ের নিঃশর্ত ভালোবাসা, বন্ধুর অকৃত্রিম সঙ্গ, প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতি মুগ্ধতা—ভালোবাসা সীমাহীন, অমর, নিরবধি।
তাই ভালোবাসা দিবস আসুক প্রতিদিনের মাঝে, ভালোবাসা থাকুক প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি স্পন্দনে। কারণ ভালোবাসাই জীবন, ভালোবাসাই সত্তা।

আহনাব মুনতাসীর, অর্থনীতি বিভাগ,
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

ভালোবাসার প্রকৃত সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করতে হবে:
ভালোবাসা হল একটি গভীর মানবিক অনুভূতি যা স্নেহ, মমতা, যত্ন এবং আবেগের সংমিশ্রণে গঠিত। এটি ব্যক্তির প্রতি গভীর আকর্ষণ, ভালোলাগা এবং আত্মীয়তার বন্ধনকে প্রকাশ করে। ভালোবাসা বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেতে পারে, যেমন পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, বন্ধুত্বের ভালোবাসা, বা রোমান্টিক ভালোবাসা।এখানে স্বার্থের বিপরীতে থাকে কেবল পবিত্রতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি বৈধতা।যে বৈধ্যতা কিন্তু আমাদের সংস্কৃতিরেই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
একটি লাল গোলাপ,দামি উপহার,রেস্তোরায় বা পার্কে সাজানো  ঝলমলে আলো, প্রেমিক -প্রেমিকার মধ্যে অবাধ নিষিদ্ধ মেলামেশা,পর্যায়ক্রমে বিশেষ দিনগুলো উৎযাপন -এগুলো কি ভালোবাসার সংজ্ঞা?নাকি এগুলো এক সুপরিকল্পিত বাণিজ্যিক ষড়যন্ত্র, যেখানে আবেগকে পণ্য বানিয়ে বিক্রি করা হয়? পশ্চিমা সংস্কৃতি ভালোবাসাকে এক শৈল্পিক অনুভূতি থেকে নামিয়ে এনেছে সুপরিকল্পিত বাণিজ্যিক মঞ্চে  যেখানে ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখ আসলেই প্রেমের নামে বাজার চাঙ্গা হয় -চকলেট,টেডি বিয়ার,বিলাসবহুল গিফট, অথচ এই একই ভালোবাসা কি বছরের বাকি ৩৬৪ দিন হয়ে  থাকে?
আবার বাঙালির ভালোবাসা  ঠিক এর বিপরীত।বাঙালির ভালোবাসা শুধু বিশেষ দিনে মিষ্টি কথা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।বরং এখানে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও আত্মিক বন্ধনের মাধ্যমে।আমাদের মায়েরা প্রতিদিন সন্তানের জন্য হাজারো চিন্তা করে, প্রেমিকা অপেক্ষা করে না কোনো  নির্দিষ্ট দিনে প্রেমিকের জন্য, স্ত্রীর ভালোবাসা গেফটের মোড়কে বন্দি নয় -বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের মধ্যে তা ফুটে উঠে।আবার ভালোবাসা কখনোই ক্যালেন্ডারের একটি নির্দিষ্ট দিনে আবদ্ধ থাকতে পারে না। এটি প্রতিদিনের অনুভূতি, প্রতিটি মুহূর্তের প্রকাশ। পশ্চিমা অপসংস্কৃতির ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের ঐতিহ্য ভুলে গেলে আমরা কেবল ভালোবাসার প্রকৃত অর্থই হারাব না, বরং আমাদের আত্মপরিচয়ও হারিয়ে ফেলব। তাই আসুন, ভালোবাসার প্রকৃত সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করি এবং এটিকে কেবল একদিনের উৎসবে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিদিন লালন করি।

তাহমিদ তারিক, লোক প্রশাসন বিভাগ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪ই ফেব্রুয়ারি : ভালোবাসা নাকি ভোগবাদ?
১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে যুগযুগ ধরে ভালোবাসার দিন হিসেবে পরিচিত হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি এক ধরনের ভোগবাদী অসুস্থ অপসংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
একসময় ভালোবাসা প্রকাশের জন্য আন্তরিকতা ও মানসিক সংযোগই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এখনকার যুগে ১৪ই ফেব্রুয়ারি তথাকথিত ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে তৈরী হয়েছে ব্যাপক বেহায়াপনা, অশ্লীলতাসহ বিভিন্ন মানহানিকর কর্মকান্ডসমূহ। বাংলাদেশের মতো রক্ষণশীল সমাজে ১৪ই ফেব্রুয়ারি পালনের ফলে অনেক সময় আমরা দেখতে পাই আমাদের প্রজন্মের মধ্যে বিভিন্ন মতবিরোধ। অনেকে এটিকে পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ হিসেবে দেখেন, যা দেশীয় মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধনকে দূর্বল করছে প্রতিনিয়ত। অন্যদিকে তরুণ সমাজ এটিকে স্বাধীনভাবে ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ হিসেবে দেখে। ফলে এটি ধার্মিক ও প্রগতিশীল গোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক সংঘাতের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।
ভালোবাসা দিবস নামক এই সংক্রামক প্রতিযোগিতা, পাশ্চাত্য অপসংস্কৃতির চর্চা আমাদের দেশসহ সকল মুসলিম প্রধান দেশ হতে বিতাড়িত হোক। নতুবা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এক অচেনা ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হবে।

মেহেদী হাসান, ইংরেজি বিভাগ,
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

প্রিয় পাঠক, আপনিও দেশদেশান্তর২৪.কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। আত্মকথা, লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-deshdeshantor24news@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।
আত্মকথা ও মতামত উভয়ই লেখকের একান্তই নিজস্ব মতামত । লেখকের মতামতের সাথে দেশদেশান্তর২৪.কম এর কোন সম্পৃক্ততা নেই।

কেএ

নামাজের সময়সূচী

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
Masjid
ফজর ৪:৪১
জোহর ১২:০৯
আসর ৪:২৯
মাগরিব ৬:১৪
ইশা ৭:২৮
সূর্যোদয় ৫:৫৬
সূর্যাস্ত ৬:১৪

আরও পড়ুন